আপনাদের জন্য এখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ভুল ব্যাখ্যাসহ অফিস সহায়ক পরীক্ষার সম্পূর্ণ সমাধান যা আজকের ১০০% সঠিক উত্তরমালা উপস্থাপন করা হলো। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করার জন্য দেশ ও বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাবলির প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয় থেকে এই অংশে প্রচুর প্রশ্ন এসে থাকে। তাই নিয়মিত পত্রিকা পড়া এবং আপডেট তথ্যগুলো জেনে রাখা সবার জন্যই অত্যাবশ্যকীয় একটি কাজ। ইতিপূর্বে পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস সহায়ক পদের
- (১ম পর্ব) ১০০% নির্ভুল ব্যাখ্যাসহ আজকের বাংলার পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬,
- (২য় পর্ব) ইংরেজির অফিস সহায়ক প্রশ্ন ও উত্তর ২০২৬
- পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস সহায়ক পদের প্রশ্নের সঠিক সমাধান ২০২৬ (গণিত-৩য় পর্ব)
নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
সম্পাদকীয় ঘোষণা
এই প্রশ্ন সমাধানটি পরীক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। উত্তরগুলো সরকারি প্রকাশনা, নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র, পাঠ্যপুস্তক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ফলাফল বা অফিসিয়াল উত্তরপত্র প্রকাশিত হলে সেটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

DOE Office Sohayok Question Solution 2026 Highlights
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পদ | অফিস সহায়ক |
| প্রতিষ্ঠান | পরিবেশ অধিদপ্তর |
| প্রশ্ন সংখ্যা | ৭৫ |
| এই পর্ব | সাধারণ জ্ঞান |
| প্রশ্ন নম্বর | ৫১-৭৫ |
| সমাধান অবস্থা | ব্যাখ্যাসহ |
(৪র্থ পর্ব) পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস সহায়ক সাধারণ জ্ঞান লিখিত সমাধান ২০২৬
নিচে (৪র্থ পর্ব) পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস সহায়ক সাধারণ জ্ঞান লিখিত সমাধান ২০২৬ তুলে ধরা হলো।
৫১. বাংলাদেশের মানচিত্র প্রথম কে আঁকেন?
ক. র্যাডক্লিফ খ. কামরুল হাসান গ. জেমস রেনেল ঘ. শিব নারায়ণ
সঠিক উত্তর: গ. জেমস রেনেল
ব্যাখ্যা:
সাধারণ জ্ঞান অংশের বাংলাদেশ বিষয়াবলি থেকে আসা এই প্রশ্নটি আমাদের দেশের ইতিহাস এবং ভৌগোলিক পরিচিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। একটি দেশের মানচিত্র শুধু একটি রেখাচিত্র নয়, বরং এটি সেই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব এবং পরিচিতির প্রথম প্রামাণ্য দলিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক পদের এই অংশে বাংলার সেই আদি মানচিত্রকারের ঐতিহাসিক পরিচয়টি পরীক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, যা সবার জানা উচিত।
ঐতিহাসিক তথ্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, অবিভক্ত বাংলা এবং ভারতবর্ষের প্রথম আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত মানচিত্রটি অঙ্কন করেছিলেন ব্রিটিশ ভূগোলবিদ এবং সেনা কর্মকর্তা মেজর জেমস রেনেল। তাকে ‘ভারতের ভূগোলের জনক’ বলা হয়। ১৭৭৯ সালে তার তৈরি করা ‘Bengal Atlas’ বা বাংলার মানচিত্রটি ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে নিখুঁত ভৌগোলিক দলিল, যা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলার নদীপথ এবং ভূখণ্ড সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছিল। তাই গ অপশনটিই হলো প্রচলিত জিকে বই ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় সীমারেখা বা ‘র্যাডক্লিফ লাইন’ টেনেছিলেন, মানচিত্র আঁকেননি। পটুয়া কামরুল হাসান হলেন আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত রূপকার এবং প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। আর শিব নারায়ণ নামের কোনো সুপরিচিত ঐতিহাসিকের সাথে বাংলার মানচিত্রের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাই DOE Office Sohayok Question বিশ্লেষণ করলে এই তিনটি অপশন বাতিল হয়ে যায়।
ইতিহাসের এই ধরনের সাল বা নামগুলো মনে রাখার সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো সেগুলোর পেছনের একটি ছোট গল্প বা উপাধি মনে রাখা। শুধু মনে রাখবেন: “যিনি বাংলার ভূগোলের জনক, তিনিই প্রথম মানচিত্রটি এঁকেছেন, আর তিনি হলেন ব্রিটিশ মেজর জেমস রেনেল।” চাকরির পরীক্ষায় এ ধরনের তথ্য থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে, তাই সাল ও ঘটনাটি একসাথে মনে রাখা উপকারী।
৫২. বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে বিদেশের কোনো সীমানা নেই?
ক. ফরিদপুর খ. ময়মনসিংহ গ. বান্দরবান ঘ. যশোর
সঠিক উত্তর: ক. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানা এবং জেলাগুলোর অবস্থান সংক্রান্ত এই প্রশ্নটি সাধারণ জ্ঞান অংশের সবচেয়ে কমন এবং ট্রিকি প্রশ্নগুলোর একটি। বাংলাদেশের মোট ৬৪টি জেলার মধ্যে সীমান্ত এবং দেশের ভেতরের জেলার সংখ্যাগত বিভাজন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে খুব সহজেই এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
আমরা জানি, বাংলাদেশের মোট সীমান্ত বা বর্ডার জেলা হলো ৩২টি (যার মধ্যে ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি, রাঙ্গামাটির সাথে উভয় দেশের সীমানা আছে)। এর মানে হলো, বাকি ৩২টি জেলার সাথে অন্য কোনো দেশের কোনো সীমানা বা বর্ডার নেই, এরা সম্পূর্ণভাবে দেশের ভেতরের দিকে অবস্থিত। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ‘ফরিদপুর’ হলো এমন একটি জেলা যা দেশের একেবারে মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর চারপাশে বাংলাদেশেরই অন্যান্য জেলা রয়েছে। তাই ক অপশনটি নিখুঁত উত্তর।
বাকি অপশনগুলো যদি আমরা মানচিত্রের আলোকে বিশ্লেষণ করি, তবে দেখব ময়মনসিংহ জেলাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সাথে সরাসরি সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। বান্দরবান জেলার সাথে মিয়ানমারের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে, যা পাহাড়ি অঞ্চল দ্বারা বেষ্টিত। আর যশোর জেলার সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের (বিশেষ করে উত্তর চব্বিশ পরগনা) বিশাল এবং অত্যন্ত পরিচিত একটি স্থলসীমান্ত (বেনাপোল বর্ডার) রয়েছে। তাই এই তিনটি জেলার প্রত্যেকটির সাথেই বিদেশের সীমানা আছে।
বাংলাদেশের মানচিত্রের এই অবস্থানগুলো মুখস্থ করার চেয়ে মানচিত্র দেখে দেখে পড়ার অভ্যাস করাটা সবচেয়ে ভালো কৌশল। শুধু মনে রাখবেন, বৃহত্তর ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল—এই মধ্যাঞ্চল বা দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সাধারণত কোনো বিদেশি সীমানা থাকে না। এই সাধারণ ভৌগোলিক ধারণাটি মাথায় রাখলে DOE এর মতো যেকোনো পরীক্ষায় আপনারা চোখের পলকেই সঠিক উত্তরটি চিহ্নিত করতে পারবেন।
৫৩. স্বাধীনতা লগ্নে বাংলাদেশের জেলা কয়টি ছিল?
ক. ১৯ খ. ২১ গ. ৩২ ঘ. ৬৪
সঠিক উত্তর: ক. ১৯
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বিবর্তন সাধারণ জ্ঞানের একটি অত্যন্ত সেনসিটিভ এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি দেশ কীভাবে তার প্রশাসনিক সীমানা সম্প্রসারণ করে আজকের এই আধুনিক রূপ পেয়েছে, সেই ঐতিহাসিক তথ্যগুলো যেকোনো চাকরিপ্রত্যাশীর নখদর্পণে থাকা উচিত। আজকের অফিস সহায়ক পরীক্ষার শেষ প্রশ্নটিতে আমাদের দেশের সেই জন্মলগ্নের প্রশাসনিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত খাঁটি তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
১৯৭১ সালে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে, তখন প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে পুরো দেশকে বড় বড় কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা ছিল, যাদেরকে জেলা বলা হতো। ঐতিহাসিক দলিল এবং সরকারি তথ্যমতে, স্বাধীনতা লগ্নে বা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে সর্বমোট জেলার সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯টি। পরবর্তীতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এই বৃহত্তর জেলাগুলোকে ভেঙে ধীরে ধীরে বর্তমান রূপ দেওয়া হয়েছে। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ক অপশনটিই হলো সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, ৬৪টি হলো বাংলাদেশের বর্তমান জেলার সংখ্যা, যা ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২১ বা ৩২ সংখ্যাগুলোর সাথে বাংলাদেশের জেলার সংখ্যার কোনো ঐতিহাসিক সম্পর্ক বা ভিত্তি নেই, এগুলো কেবল পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার জন্যই দেওয়া হয়েছে। তাই এই অপশনগুলো সরাসরি ভুল।
ইতিহাসের এই সংখ্যাভিত্তিক তথ্যগুলো মনে রাখার সহজ উপায় হলো সেগুলোর সাথে একটি নির্দিষ্ট সাল বা ঘটনা জুড়ে দেওয়া। যেমন মনে রাখবেন: “১৯৭১ সালে যখন আমরা স্বাধীন হই, তখন আমাদের জেলা ছিল ১৯টি; আর ১৯৮৪ সালে তা ভেঙে ৬৪টি করা হয়।” এই দুটি তথ্য জোড়া মিলিয়ে পড়লে পরিবেশ অধিদপ্তর এর মতো যেকোনো পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশে আপনি কখনোই আর ভুল করে অন্য কোনো সংখ্যা দাগাবেন না।
৫৪. বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? ক. ইত্তেহাদ খ. সমাচার দর্পণ গ. বঙ্গদর্শন ঘ. সমাচার সঠিক উত্তর: গ. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা: আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ প্রতিটি বাঙালির আবেগ এবং ভালোবাসার একটি পবিত্র স্থান দখল করে আছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত এই অমর গানটি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছিল। সাহিত্য এবং ইতিহাসের পাতায় এই গানটির প্রথম প্রকাশকাল এবং স্থান নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে। পরিবেশ অধিদপ্তর লিখিত পরীক্ষার এই অংশে অত্যন্ত চমৎকার একটি ঐতিহাসিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
সঠিক ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই গানটি সর্বপ্রথম ১৯০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে (১৩১২ বঙ্গাব্দের ভাদ্র সংখ্যায়) ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই বঙ্গদর্শন পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তবে গানটি প্রকাশের সময় এর নবপর্যায়ের সম্পাদক ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলার মানুষের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করার জন্য এই প্রকাশনাটি এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল। তাই গ অপশনটিই হলো এই প্রশ্নের শতভাগ সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সমাচার দর্পণ হলো বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়। ইত্তেহাদ বা সমাচার পত্রিকার সাথে জাতীয় সঙ্গীত প্রকাশের কোনো ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা নেই। এগুলো কেবল পরীক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করতে এবং দ্বিধায় ফেলতে অপশনে যুক্ত করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই ঐতিহাসিক তথ্যটি মনে রাখার অত্যন্ত সহজ একটি কৌশল রয়েছে। শুধু মনে রাখবেন: “সোনার বাংলা গানটি বাংলার দর্শনের সাথে গভীরভাবে মিশে আছে, তাই এটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।” এই ছোট্ট এবং সাবলীল লজিকটি মাথায় রাখলে DOE এর মতো যেকোনো পরীক্ষায় আপনারা চোখের পলকেই সঠিক উত্তরটি চিহ্নিত করতে পারবেন।
৫৫. বাংলাদেশে কবে প্রথম সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হয়? ক. ১৯৯১ খ. ১৯৭২ গ. ২০০১ ঘ. ১৯৮২ সঠিক উত্তর: খ. ১৯৭২
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস এবং সংবিধানের বিবর্তন যেকোনো চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য একটি আবশ্যিক পাঠ্য বিষয়। একটি সদ্য স্বাধীন দেশ কীভাবে তার সরকার ব্যবস্থা নির্বাচন করেছে, সেই ঐতিহাসিক পটভূমি থেকে এই প্রশ্নটি করা হয়েছে। আমাদের আজকের পরিবেশ অধিদপ্তর এর এই অংশে পরীক্ষার্থীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং বাংলাদেশের সংবিধানের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে যাচাই করা হয়েছে।
স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে আসার পর একটি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন। সেই আদেশের মাধ্যমেই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় এবং বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানেও এটি স্থায়ী রূপ লাভ করে। তাই শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসের ভিত্তিতে খ অপশনটিই একেবারে নিখুঁত উত্তর।
বাকি অপশনগুলো যদি আমরা যাচাই করি, তবে দেখব ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে ‘পুনরায়’ সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয় (মাঝখানে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা ছিল)। অনেকেই এই ১৯৯১ সালটিকে প্রথম ভেবে ভুল করে বসেন। ২০০১ বা ১৯৮২ সালের সাথে প্রথম সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের কোনো ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই। আজকের অংশে এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি পরীক্ষার্থীদের খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে।
এই ঐতিহাসিক সালটি মনে রাখার সবচেয়ে সোজা কৌশল হলো সংবিধানের সাথে একে মিলিয়ে পড়া। “আমাদের প্রথম সংবিধান লেখা হয় ১৯৭২ সালে, তাই আমাদের প্রথম সংসদীয় গণতন্ত্রও শুরু হয় সেই ১৯৭২ সালেই।” সংবিধানের জন্মের সাথেই যে এই ব্যবস্থার জন্ম, এই ধারণাটি ব্রেনে সেট করে নিলে যেকোনো পরীক্ষায় আপনার আর কখনোই ভুল হবে না।
৫৬. দেশের একাদশতম সিটি কর্পোরেশন কোনটি? ক. নারায়ণগঞ্জ খ. গাজীপুর গ. রাজশাহী ঘ. বগুড়া সঠিক উত্তর: খ. গাজীপুর
ব্যাখ্যা: প্রশাসনিক কাঠামো এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ বাংলাদেশের সাধারণ জ্ঞান অংশের একটি অত্যন্ত ডাইনামিক বা পরিবর্তনশীল টপিক। কতটি বিভাগ, জেলা বা সিটি কর্পোরেশন বর্তমানে রয়েছে এবং সেগুলোর প্রতিষ্ঠার ক্রম জানা থাকাটা খুবই জরুরি। এই অংশে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে, যা সাম্প্রতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা।
প্রশাসনিক তথ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের একাদশতম বা ১১তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। টঙ্গী এবং গাজীপুর পৌরসভাকে একত্রিত করে দেশের সবচেয়ে বড় আয়তনের এই সিটি কর্পোরেশনটি গঠন করা হয়েছিল। তাই প্রশাসনিক ক্রম অনুযায়ী খ অপশনটিই হলো এই প্রশ্নের শতভাগ সঠিক এবং নির্ভুল উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ হলো দেশের দশম সিটি কর্পোরেশন যা ২০১১ সালে গঠিত হয়। রাজশাহী অনেক পুরোনো একটি সিটি কর্পোরেশন যা অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত। আর বগুড়া এখনো পর্যন্ত কোনো সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা পায়নি, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা। তাই অন্যান্য অপশনগুলো সংখ্যাগত এবং তথ্যের দিক থেকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
এই ক্রমগুলো পরীক্ষার হলে দ্রুত মনে রাখার একটি দারুণ শর্টকাট কৌশল হলো সংখ্যার সাথে নামের মিল খোঁজা। “একাদশে বা এগারো তে গাজী।” অর্থাৎ ১১ নম্বর আসলেই গাজীপুরের কথা মনে করতে হবে। আর ১২ নম্বর হলো সর্বশেষ ময়মনসিংহ।
৫৭. বাংলাদেশ কোন সালে ফিফার সদস্য পদ লাভ করে? ক. ১৯৭৪ খ. ১৯৭৭ গ. ১৯৮২ ঘ. ১৯৮৫ সঠিক উত্তর: কোনোটিই নয় (সঠিক উত্তর হবে ১৯৭৬)
সূত্রঃ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন উইকিপিডিয়া।
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা এবং সেগুলোতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ইতিহাস সাধারণ জ্ঞানের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় অংশ। বিশেষ করে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা (FIFA) এবং ক্রিকেটের আইসিসি (ICC) নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। তবে আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক পদের এর এই প্রশ্নটিতে একটি বিশাল অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ বিভ্রান্তিকর এবং একই সাথে একটি শিক্ষণীয় বিষয়।
ফুটবল ফেডারেশন এবং ফিফার অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) গঠিত হয় ১৯৭২ সালে। এরপর ১৯৭৩ সালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সদস্যপদ লাভ করে এবং চূড়ান্তভাবে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ফিফার (FIFA) পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ অর্জন করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রশ্নের প্রদত্ত চারটি অপশনের (১৯৭৪, ১৯৭৭, ১৯৮২, ১৯৮৫) কোনোটিতেই সঠিক সাল ‘১৯৭৬’ উল্লেখ করা নেই।
যেহেতু কোনো অপশনেই সঠিক উত্তরটি নেই, তাই এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ বা ভুল বা ব্লাঙ্ক প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হবে। সাধারণত এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীরা কোনো অপশন ভরাট না করে ফাঁকা রেখে আসেন, আবার অনেকেই কাছাকাছি সাল ভেবে ১৯৭৪ বা ১৯৭৭ দাগিয়ে বসেন। তবে পিএসসি বা অন্যান্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী এমন ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নে সাধারণত সবাইকে সমান নম্বর বা গ্রেস মার্কস দিয়ে দেওয়া হয়।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদস্যপদ পাওয়ার সাল মনে রাখার কৌশল হলো একটি টাইমলাইন তৈরি করা। “১৯৭২ সালে বাফুফে জন্ম নিল, আর ৪ বছর পর ১৯৭৬ সালে ফিফায় খেলতে গেল।” এই ধারাবাহিক গল্পটি মনে রাখলে অফিস সহায়ক পরীক্ষার সঠিক উত্তর ২০২৬ যাচাই করার সময় এমন ভুল অপশন দেখলেই আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ধরতে পারবেন যে প্রশ্নটিতেই মূল সমস্যা রয়েছে।
৫৮. সর্বস্তরে বাংলাভাষা প্রচলন আইন কত সালে পাশ হয়? ক. ১৯৮৭ খ. ১৯৮৮ গ. ১৯৮৯ ঘ. ১৯৫৬ সঠিক উত্তর: ক. ১৯৮৭
ব্যাখ্যা: মাতৃভাষা বাংলার প্রতি সম্মান এবং রাষ্ট্রীয় কাজে এর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আইনি পদক্ষেপের ইতিহাস যেকোনো সচেতন নাগরিকের জানা উচিত। ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ভাষার অধিকার পেলেও, দাপ্তরিক কাজে এর পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন ছিল। এই প্রশ্নটি মূলত সেই ভাষা সম্পর্কিত আইনি অধিকারের ইতিহাস থেকেই করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সকল দাপ্তরিক ও আইনি কার্যক্রমে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে তৎকালীন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের আমলে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন’ পাশ করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এই ঐতিহাসিক আইনটি ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ চূড়ান্তভাবে পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমেই সরকারি অফিসে ইংরেজি বা অন্য ভাষার বদলে বাংলার ব্যবহার আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই ঐতিহাসিক দলিলের ভিত্তিতে ক অপশনটিই হলো নিখুঁত উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলো বিবেচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল একটি সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কোনো আইন নয়। অন্যদিকে ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সালে এমন ভাষা সংক্রান্ত কোনো যুগান্তকারী আইন সংসদে পাশ হয়নি। তাই বাকি তিনটি অপশন কেবল পরীক্ষার্থীদের সন-তারিখের কনফিউশনে ফেলার জন্যই দেওয়া হয়েছে।
এই সালটি আজীবন মনে রাখার একটি চমৎকার এবং ধ্বনিগত কৌশল আছে। “আশির দশকের শেষের দিকে ভাষা আইন আসে। সাতাশি মানে হলো ভাষা-শি।” অর্থাৎ ১৯৮৭ সালের শব্দটির উচ্চারণের সাথে ভাষার একটি দারুণ ছন্দ আছে। এই রাইমিং বা ছন্দটি ব্রেনে একবার সেট হয়ে গেলে যেকোনো পরীক্ষায় অপশন দেখামাত্রই আপনার ১৯৮৭ সালটি মনে পড়ে যাবে।
৫৯. বিশ্বে কততম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট চালু করেছে? ক. ১১৩ খ. ১১৫ গ. ১১৭ ঘ. ১১৯ সঠিক উত্তর: ঘ. ১১৯
ব্যাখ্যা: প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সফলতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের এই আধুনিকায়নের ধাপটি সাধারণ জ্ঞানের সাম্প্রতিক বিষয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের অংশে এই প্রযুক্তিগত অর্জনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাগরিকদের জন্য অত্যাধুনিক চিপযুক্ত ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধন করে। এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এবং সমগ্র বিশ্বের মধ্যে ১১৯তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের যুগে সগৌরবে প্রবেশ করে। এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণেই আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ঘ অপশনটি হলো পরীক্ষার প্রশ্ন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য সঠিক উত্তর।
বাকি অপশনগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখি ১১৩, ১১৫ বা ১১৭—এই সংখ্যাগুলোর কোনো বাস্তব বা পরিসংখ্যানগত ভিত্তি ই-পাসপোর্টের এই র্যাংকিংয়ের সাথে নেই। আন্তর্জাতিক ইভিয়েশন বা পাসপোর্ট সূচকে এই অবস্থানগুলো অন্যান্য দেশের জন্য বরাদ্দ। যারা সাম্প্রতিক তথ্য এবং পত্রিকার খবরগুলোর সাথে নিয়মিত যুক্ত থাকেন না, কেবল তারাই এই কাছাকাছি সংখ্যাগুলো দেখে পরীক্ষার হলে তীব্র বিভ্রান্তির শিকার হন।
পরীক্ষার হলে এই র্যাংকিং মনে রাখার সবচেয়ে সোজা কৌশল হলো একটি ইমার্জেন্সি নাম্বারের কথা চিন্তা করা। “১১৯ (119) হলো একটি জরুরি সেবার নাম্বার। আর ই-পাসপোর্ট মানেই হলো ইমার্জেন্সি বা খুব দ্রুত ইমিগ্রেশন পার হওয়ার একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা।” এই চমৎকার তুলনামূলক লজিকটি মাথায় রাখলে পরিবেশ অধিদপ্তর লিখিত পরীক্ষার মতো যেকোনো পরীক্ষায় আপনার আর কখনোই ভুল হবে না।
৬০. জাতীয় বিমা দিবস কবে? ক. ০১ জুন খ. ০৩ মার্চ গ. ০১ মার্চ ঘ. ০৫ জুন সঠিক উত্তর: গ. ০১ মার্চ
ব্যাখ্যা: জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসের তারিখ মুখস্থ রাখা যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সিলেবাসের একটি অপরিহার্য অংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মজীবনের একটি বিশেষ ঐতিহাসিক স্মৃতির সাথে এই বিমা দিবসটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আমাদের আজকের এই অংশে পরীক্ষার্থীর সেই জাতীয় দিবস এবং এর পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর ধারণা যাচাই করা হয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার আগে, ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেছিলেন। তার এই কর্মজীবনে যোগদানের ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ‘১ মার্চ’ কে জাতীয় বিমা দিবস হিসেবে অত্যন্ত আড়ম্বরের সাথে পালন করে। তাই ঐতিহাসিক এই প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে গ অপশনটিই হলো একেবারে নির্ভুল উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলো যদি আমরা যাচাই করি, তবে দেখব ৫ জুন হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস, যা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। ৩ মার্চ হলো বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস। আর ১ জুন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস হিসেবে পালিত হয়। এই তারিখগুলো অত্যন্ত সুপরিচিত আন্তর্জাতিক দিবস হলেও আমাদের দেশীয় বিমা দিবসের সাথে এগুলোর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তাই যৌক্তিকভাবেই এই অপশনগুলো সরাসরি বাদ পড়ে যাবে।
এই নির্দিষ্ট দিবসটি মনে রাখার একটি দারুণ এবং লজিক্যাল কৌশল আছে। “মার্চ মাস হলো আমাদের স্বাধীনতার মাস, একটি নতুন শুরুর মাস। আর বিমা বা ইন্স্যুরেন্স করা মানেই হলো জীবনের একটি নিরাপদ ও নতুন শুরু, তাই মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ মার্চ হলো বিমা দিবস।”
৬১. বাংলাদেশের বন গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত? ক. রাজশাহী খ. কুমিল্লা গ. চট্টগ্রাম ঘ. গাজীপুর সঠিক উত্তর: গ. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সদর দপ্তরের ভৌগোলিক অবস্থান সাধারণ জ্ঞানের একটি অত্যন্ত কমন টপিক। বিশেষ করে কৃষি, বন এবং পরিবেশ সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান জানা থাকাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের যেকোনো পরীক্ষার জন্য একেবারে বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশের একমাত্র এবং প্রধান বন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা ‘বাংলাদেশ ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (BFRI) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় অবস্থিত। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বনজ সম্পদের উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। চট্টগ্রামের পাহাড় এবং বনভূমির প্রাচুর্যের কারণেই কৌশলগতভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল। তাই গ অপশনটিই হলো এই প্রশ্নের শতভাগ সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BARI)। রাজশাহীতে রেশম গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, আর কুমিল্লায় বার্ড (BARD) অবস্থিত। প্রতিটি জেলারই নিজস্ব কিছু বিখ্যাত গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, কিন্তু বন গবেষণার সাথে চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য কোনো জেলার সরাসরি নাম যুক্ত নয়। তাই এই অপশনগুলো সম্পূর্ণ ভুল।
পরীক্ষার হলে এই গবেষণাগারগুলোর নাম মনে রাখার সবচেয়ে সেরা কৌশল হলো সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা চিন্তা করা। “বন, জঙ্গল এবং উঁচু উঁচু পাহাড় মানেই আমাদের চোখে চট্টগ্রামের ছবি ভেসে ওঠে। তাই বন নিয়ে গবেষণা করার সবচেয়ে ভালো জায়গা চট্টগ্রামেই হবে।”
৬২. বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পরিবেশ নীতি ঘোষিত হয় কোন সালে? ক. ১৯৯২ খ. ১৯৮২ গ. ১৯৯৮ ঘ. ১৯৯০ সঠিক উত্তর: ক. ১৯৯২
ব্যাখ্যা: যেহেতু পরীক্ষাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের, তাই পরিবেশ বিষয়ক আইন, নীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকলগুলো থেকে প্রশ্ন আসাটা একেবারেই অনুমেয়। একটি দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দূষণ রোধের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কবে প্রথম সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক সালটি যেকোনো সচেতন প্রার্থীর নখদর্পণে থাকা উচিত।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার সর্বপ্রথম ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় পরিবেশ নীতি’ (National Environment Policy) ঘোষণা করে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা। পরবর্তীতে এর ওপর ভিত্তি করেই ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন তৈরি হয়। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ক অপশনটি হলো একেবারে নির্ভুল উত্তর।
বাকি অপশনগুলো বিবেচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৮, ১৯৮২ বা ১৯৯০ সালে পরিবেশ নিয়ে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ ও জাতীয় নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়নি। এই সালগুলো কেবল পরীক্ষার্থীদের সন-তারিখের গোলকধাঁধায় ফেলার জন্য অপশনে যুক্ত করা হয়েছে। যারা পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের বেসিক ইতিহাস বা ভিশন-মিশন পেজটি অন্তত একবার পড়েছেন, তারা এই ভুল অপশনগুলোতে কখনোই বিভ্রান্ত হবেন না।
এই সালটি আজীবন মনে রাখার একটি চমৎকার আন্তর্জাতিক রেফারেন্স বা কৌশল রয়েছে। “১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধরিত্রী সম্মেলন (Earth Summit) হয়েছিল। বিশ্ব যখন পরিবেশ নিয়ে সচেতন হলো, ঠিক একই বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে বাংলাদেশও তার প্রথম পরিবেশ নীতি ঘোষণা করল।”
৬৩. বাংলাদেশের কয়টি জেলায় কোন রাষ্ট্রীয় বনভূমি নেই? ক. ৩১ খ. ৫২ গ. ১৯ ঘ. ২৮ সঠিক উত্তর: ঘ. ২৮
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের বনাঞ্চলের পরিমাণ এবং এর বিস্তৃতি ভূগোল অংশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচ্ছেদ। আমাদের দেশে মোট ভূখণ্ডের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ এমনিতেই অনেক কম। তার ওপর সব জেলায় প্রাকৃতিকভাবে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমান বনভূমি নেই। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ডাটাবেজ থেকে এই অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রশ্নটি করা হয়েছে।
বন অধিদপ্তরের সরকারি হিসেব এবং ভৌগোলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৬টি জেলায় রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানাধীন বনভূমি রয়েছে। এর সোজা গাণিতিক অর্থ হলো, অবশিষ্ট ২৮টি (৬৪ – ৩৬ = ২৮) জেলায় কোনো রাষ্ট্রীয় বনভূমি নেই। এই জেলাগুলোতে মূলত সামাজিক বনায়ন বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাছপালা লাগানো হয়, কিন্তু রিজার্ভ ফরেস্ট বা রাষ্ট্রীয় বন নেই। তাই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ঘ অপশনটিই হলো সরকারি তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখি ১৯, ৩১ বা ৫২—এই সংখ্যাগুলোর সাথে বনভূমির কোনো ভৌগোলিক পরিসংখ্যানের মিল নেই। তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো, অনেক পুরোনো বইয়ে এই সংখ্যাটি ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু বন বিভাগের লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী ২৮টি জেলাতেই রাষ্ট্রীয় বনভূমি নেই। তাই পুরনো গাইড বই পড়ে যারা পরীক্ষা দিতে গেছেন, তারা এই বিভ্রান্তিকর অপশনগুলোতে হোঁচট খেয়েছেন।
পরীক্ষার হলে এই ধরনের পরিসংখ্যান মনে রাখার শর্টকাট কৌশল হলো একটি সহজ গাণিতিক বিয়োগফল মনে রাখা। “মোট জেলা ৬৪, তার মধ্যে বন আছে ৩৬ টিতে, আর নেই ২৮ টিতে।” এই ছোট এবং সাধারণ জোড়া সংখ্যাটি (৩৬-২৮) বারবার পড়লে অফিস সহায়ক পরীক্ষার মতো যেকোনো পরীক্ষায় আপনার ব্রেনে সঠিক উত্তরটি খুব দ্রুত ফ্ল্যাশ করবে।
৬৪. উপসাগরীয় যুদ্ধে ব্যবহৃত স্কাড ক্ষেপণাস্ত্রটি কোন দেশের? ক. যুক্তরাষ্ট্র খ. ইসরাইল গ. রাশিয়া ঘ. ইরাক সঠিক উত্তর: গ. রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাসে ব্যবহৃত বিখ্যাত অস্ত্রশস্ত্রের নাম সাধারণ জ্ঞান অংশের একটি ক্লাসিক টপিক। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ (Gulf War) বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া একটি ঘটনা, যেখানে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার দেখা গিয়েছিল।
‘স্কাড’ (Scud) হলো স্নায়ুযুদ্ধ বা কোল্ড ওয়ারের সময় তৈরি করা একটি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা মূলত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বা বর্তমান রাশিয়া তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন রাশিয়ান এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক স্কাড মিসাইল তৈরি করেন এবং উপসাগরীয় যুদ্ধে সেগুলো ইসরাইল ও সৌদি আরবের দিকে নিক্ষেপ করে বিশ্বব্যাপী ত্রাসের সৃষ্টি করেন। যেহেতু মূল প্রযুক্তি এবং উৎপাদক রাশিয়া, তাই গ অপশনটিই হলো নিখুঁত উত্তর।
বাকি অপশনগুলো যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখব উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল মূলত ইরাকের এই স্কাড মিসাইল ঠেকাতে তাদের বিখ্যাত ‘প্যাট্রিয়ট’ (Patriot) মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করেছিল। আর ইরাক এই স্কাড মিসাইল ব্যবহার করলেও তারা এর মূল উদ্ভাবক বা মালিক দেশ ছিল না। তাই উদ্ভাবনী এবং ঐতিহাসিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা ইরাক সরাসরি সঠিক উত্তর হতে পারে না।
এই অস্ত্রের উৎস মনে রাখার একটি দারুণ এবং লজিক্যাল কৌশল আছে। “স্কাড (Scud) শব্দটি শুনতে বেশ শক্ত এবং কর্কশ, ঠিক যেমন রাশিয়ান শব্দগুলো শুনতে লাগে। আর ওই সময়ে আমেরিকার অস্ত্রের নামগুলো বেশ আধুনিক ছিল (যেমন প্যাট্রিয়ট)।” এই ছোট মানসিক ধারণা বা টোনটি কাজে লাগালে আর কোনো ধরনের দ্বিধা থাকবে না।
৬৫. বুরকিনা ফাসোর প্রাক্তন নাম কি? ক. গোল্ড কোস্ট খ. দাহোমি গ. আপার ভোল্টা ঘ. নিয়াসাল্যান্ড সঠিক উত্তর: গ. আপার ভোল্টা
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বিশ্ব ভূগোল অংশে বিভিন্ন দেশের পুরোনো বা প্রাক্তন নাম এবং নতুন নাম মুখস্থ রাখাটা যেকোনো চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য আবশ্যিক। উপনিবেশবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার পর আফ্রিকার অনেক দেশই তাদের ঔপনিবেশিক নাম পরিবর্তন করে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে নতুন নাম গ্রহণ করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর এর এই অংশে ঠিক তেমনি একটি আফ্রিকান দেশের ঐতিহাসিক নাম পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকার একটি অত্যন্ত পরিচিত দেশ হলো বর্তমান ‘বুরকিনা ফাসো’। ফরাসি উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট টমাস শংকারা দেশটির পুরোনো নাম ‘আপার ভোল্টা’ (Upper Volta) পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখেন বুরকিনা ফাসো (যার অর্থ সৎ মানুষের দেশ)। অর্থাৎ, বুরকিনা ফাসোর ঐতিহাসিক এবং প্রাক্তন নাম ছিল আপার ভোল্টা। তাই বিশ্ব ইতিহাসের ভিত্তিতে গ অপশনটি হলো একেবারে একেবারে নিখুঁত উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, ‘গোল্ড কোস্ট’ হলো বর্তমান ঘানার প্রাক্তন নাম। ‘দাহোমি’ হলো পশ্চিম আফ্রিকার আরেকটি দেশ বর্তমান বেনিনের পুরোনো নাম। আর ‘নিয়াসাল্যান্ড’ হলো মালাউই প্রজাতন্ত্রের প্রাক্তন নাম। আফ্রিকার এই দেশগুলোর নাম পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে, যা ভালোভাবে পড়া না থাকলে পরীক্ষার্থীরা খুব সহজেই পরীক্ষার হলে কনফিউজড হয়ে যান।
এই প্রাক্তন নামটি আজীবন মনে রাখার সবচেয়ে সোজা এবং মজাদার কৌশল হলো শব্দের সাথে একটি বাংলা ভাবার্থ তৈরি করা। “বুরকিনা মানে হলো উপরে বা আপার (Upper)।” বুরকিনার সাথে আপার শব্দটি মিলিয়ে বারবার পড়লে অপশন দেখামাত্রই আপনার আপার ভোল্টা নামটি চোখের সামনে ভেসে উঠবে।
৬৬. আকসাই চীন মহাসড়ক কোথায় অবস্থিত? ক. তিব্বত খ. কাশ্মীর গ. সিকিম ঘ. নেপাল সঠিক উত্তর: খ. কাশ্মীর
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক সীমানা বিরোধ এবং ভূ-রাজনীতির অত্যন্ত উত্তপ্ত একটি বিষয় হলো এই আকসাই চীন অঞ্চল। চীন এবং ভারতের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনার খবর যারা নিয়মিত পড়েন, তাদের কাছে এই জায়গাটি খুবই পরিচিত। ভারত-চীন যুদ্ধের ইতিহাস এবং ভৌগোলিক স্ট্র্যাটেজি বোঝার জন্য এই প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির একটি অত্যন্ত চমৎকার এবং স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন।
‘আকসাই চীন’ হলো মূলত বৃহত্তর কাশ্মীর অঞ্চলের একটি অত্যন্ত দুর্গম, শীতল এবং জনবসতিহীন মরু এলাকা। ভৌগোলিকভাবে এটি জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ অংশে অবস্থিত হলেও বর্তমানে এটি সম্পূর্ণভাবে চীনের অবৈধ নিয়ন্ত্রণে বা শাসনে রয়েছে। ১৯৫০-এর দশকে চীন এই আকসাই চীন এলাকার ভেতর দিয়ে জিনজিয়াং ও তিব্বতকে যুক্ত করার জন্য একটি বিশাল মহাসড়ক (Highway 219) নির্মাণ করে, যা নিয়ে পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধ বেধে যায়। তাই ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী খ অপশনটিই নিখুঁত উত্তর।
বাকি অপশনগুলো বিবেচনা করলে, তিব্বত এবং সিকিম হলো হিমালয় অঞ্চলের ভিন্ন দুটি বিতর্কিত বা পাহাড়ি এলাকা, তবে আকসাই চীনের মূল ভূখণ্ড সরাসরি কাশ্মীরের লাদাখ অংশের সাথে যুক্ত। আর নেপাল তো একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং আলাদা রাষ্ট্র, যার সাথে এই নির্দিষ্ট মহাসড়ক বা সীমান্ত বিরোধের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই অন্য তিনটি অপশন ভৌগোলিক দিক থেকে সম্পূর্ণ ভুল।
পরীক্ষার হলে এই বিরোধপূর্ণ জায়গাটির নাম মনে রাখার শর্টকাট কৌশল হলো সীমানার খবরগুলো মনে করা। “ভারত আর চীনের মধ্যে সবচেয়ে বড় মারামারি হয় কাশ্মীর আর লাদাখ সীমান্তে। আর চীনারা সেখানেই অর্থাৎ কাশ্মীরে আকসাই চীন রাস্তা বানিয়েছে।”
৬৭. ‘লেইস ফেয়ার’ নীতির প্রবর্তক কে? ক. এডাম স্মিথ খ. ডেভিড রিকার্ডো গ. জে এস মিল ঘ. জে এস কিনস সঠিক উত্তর: ক. এডাম স্মিথ (Adam Smith)
ব্যাখ্যা: অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একেবারে মৌলিক এবং ঐতিহাসিক একটি মতবাদ থেকে এই প্রশ্নটি করা হয়েছে। যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিখ্যাত অর্থনৈতিক তত্ত্ব এবং তাদের প্রবর্তকদের নাম প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়। আমাদের আজকের অফিস সহায়ক MCQ সমাধান PDF ২০২৬ এর এই অংশে পুঁজিবাদের সবচেয়ে আদি এবং শক্তিশালী একটি নীতির প্রতিষ্ঠাতার নাম অত্যন্ত সুচারুভাবে পরীক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।
ফরাসি শব্দগুচ্ছ ‘লেইস ফেয়ার’ (Laissez-faire) এর আক্ষরিক অর্থ হলো “আমাদের একা ছেড়ে দাও বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দাও।” অর্থনীতিতে এর মানে হলো সরকারি হস্তক্ষেপ মুক্ত অবাধ বা মুক্ত বাজার অর্থনীতি। আধুনিক অর্থনীতির জনক, বিখ্যাত স্কটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith) তার যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘The Wealth of Nations’ (১৭৭৬) এ এই অবাধ বাজার নীতির সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরেন এবং এর প্রবর্তন করেন। তাই ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে ক অপশনটিই হলো শতভাগ সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলো যদি আমরা যাচাই করি, তবে ডেভিড রিকার্ডো হলেন তুলনামূলক খরচ তত্ত্বের প্রবর্তক। জন স্টুয়ার্ট মিল (জে এস মিল) হলেন হিতবাদ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার একজন প্রবক্তা। আর জন মেনার্ড কিনস (জে এম কিনস) হলেন ম্যাক্রো-ইকোনমিক্স বা আধুনিক সামষ্টিক অর্থনীতির জনক, যিনি সরকারি হস্তক্ষেপের পক্ষে ছিলেন। তাই এই স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদদের কেউই লেইস ফেয়ার নীতির মূল প্রবর্তক নন।
এই অর্থনৈতিক তত্ত্বটি দ্রুত মনে রাখার একটি দারুণ এবং লজিক্যাল কৌশল আছে। “স্মিথ মানে হলো কামার বা সাধারণ ব্যবসায়ী। আর অ্যাডাম স্মিথ বলেছিলেন, আমাদের ব্যবসায়ীদের মুক্তভাবে ব্যবসা করতে দাও, সরকার যেন নাক না গলায়।” এই মুক্ত বা ফ্রি মার্কেটের ধারণাটির সাথে অ্যাডাম স্মিথের নাম মিলিয়ে পড়লে আপনার আর কখনোই ভুল হবে না।
৬৮. সিলি পয়েন্ট শব্দটি কোন খেলায় ব্যবহৃত হয়? ক. স্যুটিং খ. বক্সিং গ. গলফ ঘ. ক্রিকেট সঠিক উত্তর: ঘ. ক্রিকেট
ব্যাখ্যা: খেলাধুলা এবং স্পোর্টস পরিভাষা থেকে আসা সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নগুলো সব সময়ই পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ মজাদার এবং স্কোরিং একটি জায়গা। বিভিন্ন খেলার নিজস্ব কিছু অদ্ভুত এবং চমকপ্রদ টার্ম বা শব্দ থাকে, যেগুলো শুধু ঐ খেলাটির সাথেই মানানসই। আজকের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরীক্ষায় এই অংশে ঠিক তেমনি একটি মজার শব্দ কোন খেলার সাথে যুক্ত, তা পরীক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে।
‘সিলি পয়েন্ট’ (Silly Point) শব্দটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং স্পেসিফিক ফিল্ডিং পজিশন। ব্যাটসম্যানের একেবারে নাকের ডগায় বা অফ সাইডের খুব কাছাকাছি জায়গায়, যেখানে বল আঘাত করার প্রবল ঝুঁকি থাকে, সেখানে কোনো ফিল্ডার দাঁড়ালে তাকে সিলি পয়েন্ট বলা হয়। এত কাছে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলাকে একপ্রকার ‘বোকামি বা সিলি’ মনে করা হয় বলেই ইংরেজিতে এই পজিশনটির এমন মজার নামকরণ করা হয়েছে। তাই ঘ অপশনটিই হলো একেবারে নির্ভুল উত্তর।
বাকি অপশনগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, শুটিং, বক্সিং বা গলফ খেলায় এমন কোনো পজিশন বা পরিভাষার অস্তিত্ব নেই। বক্সিংয়ে সাধারণত আপারকাট বা নকআউট শব্দ ব্যবহৃত হয়। গলফে ব্যবহৃত হয় বার্ডি বা বোগি। যারা নিয়মিত ক্রিকেট খেলা দেখেন না বা শুধু ফুটবলের ভক্ত, তারাই মূলত এমন সহজ প্রশ্নের অপশন দেখে পরীক্ষার হলে কনফিউজড হয়ে যান।
এই পরিভাষাটি আজীবন মনে রাখার সবচেয়ে সেরা কৌশল হলো শব্দের আক্ষরিক অর্থটি বোঝা। “ব্যাটসম্যান এত জোরে বল মারে, তার একেবারে কাছে দাঁড়িয়ে ফিল্ডিং করা তো একটা সিলি (Silly) বা বোকা কাজ।” ক্রিকেটের এই মারাত্মক এবং সাহসী ফিল্ডিং পজিশনের কথা মনে রাখলে যেকোনো পরীক্ষায় স্পোর্টসের প্রশ্নে আপনি খুব সহজেই এক মার্কস পেয়ে যাবেন।
৬৯. ‘জলবায়ু কন্যা’ গ্রেটা থুনবার্গ কোন দেশের নাগরিক? ক. কানাডা খ. নেদারল্যান্ড গ. ফিনল্যান্ড ঘ. সুইডেন সঠিক উত্তর: ঘ. সুইডেন
ব্যাখ্যা: যেহেতু এটি পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরীক্ষা, তাই আন্তর্জাতিক পরিবেশকর্মী এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সাম্প্রতিক আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে প্রশ্ন আসাটা একেবারেই লজিক্যাল এবং প্রত্যাশিত। বিশ্বজুড়ে পরিবেশ রক্ষার দাবিতে যে কয়জন তরুণ বা কিশোরী আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে গ্রেটা থুনবার্গ সবচেয়ে আলোচিত নাম।
গ্রেটা থুনবার্গ (Greta Thunberg) হলেন একজন বিশ্বখ্যাত এবং তরুণ পরিবেশবাদী ও জলবায়ু কর্মী। তিনি ২০১৮ সালে যখন প্রথম সুইডিশ পার্লামেন্টের বাইরে পরিবেশ রক্ষার দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন, তখন সারা বিশ্বের মিডিয়া তাকে নিয়ে মেতে ওঠে। এই অকুতোভয় ‘জলবায়ু কন্যা’র জন্ম এবং বেড়ে ওঠা উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ সুইডেনে। তাই আন্তর্জাতিক প্রোফাইল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘ অপশনটিই হলো এই প্রশ্নের শতভাগ নির্ভুল উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলো বিবেচনা করলে দেখা যায়, কানাডা, নেদারল্যান্ড বা ফিনল্যান্ড—এই দেশগুলো পরিবেশ সুরক্ষায় অনেক অগ্রগামী হলেও গ্রেটা থুনবার্গের জন্মভূমির সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণত নর্ডিক বা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর নাম কাছাকাছি হওয়ায় এবং এদের আবহাওয়া একই রকম হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা অপশনগুলো দেখে খুব সহজেই বিভ্রান্তির শিকার হন।
পরীক্ষার হলে গ্রেটার দেশের নাম মনে রাখার একটি অত্যন্ত চমৎকার এবং ভিজ্যুয়াল কৌশল রয়েছে। “সুইডেন হলো বরফ এবং স্নো-তে ঢাকা একটি অত্যন্ত সুন্দর দেশ, আর গ্রেটা চায় সেই বরফ বা গ্লেসিয়ারগুলো যেন গলে না যায়।” এই কনকনে শীতের দেশ সুইডেনের সাথে গ্রেটার জলবায়ু আন্দোলনের সম্পর্কটি জুড়ে দিলে আপনার আর কখনোই কনফিউশন তৈরি হবে না।
৭০. Friday for Future কোন ধরনের আন্দোলন? ক. ধর্মীয় আন্দোলন খ. পরিবেশবাদী আন্দোলন গ. শান্তিবাদী আন্দোলন ঘ. গণতান্ত্রিক আন্দোলন সঠিক উত্তর: খ. পরিবেশবাদী আন্দোলন
ব্যাখ্যা: পূর্ববর্তী প্রশ্নের ঠিক ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পরিবেশগত আন্দোলনের একটি অত্যন্ত আলোচিত ক্যাম্পেইন নিয়ে এই প্রশ্নটি করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বৈশ্বিক পরিবেশ রক্ষার এমন যুগান্তকারী আন্দোলনগুলোর মূল উদ্দেশ্য বা ধরন জানা থাকাটা এক প্রকার বাধ্যতামূলক।
‘Friday for Future’ (ভবিষ্যতের জন্য শুক্রবার) হলো একটি বিশ্বব্যাপী চলমান এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ‘পরিবেশবাদী আন্দোলন’ (Climate Movement)। সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ ২০১৮ সালে যখন প্রতি শুক্রবার স্কুল বয়কট করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন, তখন থেকেই মূলত এই আন্দোলনের সূত্রপাত। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী শুক্রবার স্কুল ছুটি দিয়ে পরিবেশ রক্ষার এই মিছিলে যোগ দেয়। তাই মূল উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে খ অপশনটিই হলো নিখুঁত উত্তর।
বাকি অপশনগুলো যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তবে ফ্রাইডে বা শুক্রবার শব্দটি দেখে অনেকেই এটিকে ধর্মীয় আন্দোলন (যেমন- জুমার নামাজের সাথে মিলিয়ে) ভেবে মারাত্মক ভুল করে বসেন। আবার অনেকে এটিকে শান্তিবাদী বা রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন মনে করেন। কিন্তু এর মূল ফোকাস বা লক্ষ্য হলো গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ করা, অন্য কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিষয় নয়।
এই আন্দোলনের ধরনটি আজীবন মনে রাখার শর্টকাট কৌশল হলো এর পেছনের মূল ব্যক্তির কথা মনে রাখা। “গ্রেটা থুনবার্গ হলেন পরিবেশকর্মী, আর তিনি শুক্রবারে স্কুল কামাই করে আন্দোলন করতেন। তাই ফ্রাইডে ফর ফিউচার মানেই হলো পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলন।” এই ছোট্ট এবং লজিক্যাল গল্পের মাধ্যমে তথ্যটি ব্রেনে সেট করে নিলে পরিবেশ অধিদপ্তর লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর এর মতো যেকোনো পরীক্ষায় আপনি শতভাগ আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দাগাতে পারবেন।
৭১. IUCN – এর কাজ হলো বিশ্বব্যাপী ক. প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ খ. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন গ. পানি সম্পদ সংরক্ষণ ঘ. মানবাধিকার সংরক্ষণ সঠিক উত্তর: ক. প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নাম এবং তাদের সংক্ষিপ্ত রূপ বা এব্রিভিয়েশন (Abbreviation) এর পূর্ণরূপ জানা থাকলে খুব সহজেই তাদের কাজের পরিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো এবং বড় সংস্থাটি সম্পর্কে এই প্রশ্নটি করা হয়েছে, যা DOE Office Sohayok এর জন্য একেবারে একটি পারফেক্ট এবং প্রাসঙ্গিক জিকে (GK)।
IUCN এর পূর্ণরূপ হলো ‘International Union for Conservation of Nature’ (প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন)। নামের শেষের ‘Nature’ বা প্রকৃতি শব্দটি থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে, এর মূল এবং প্রধান কাজ হলো বিশ্বব্যাপী বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী, উদ্ভিদ এবং সার্বিক ‘প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ’ করা। বিখ্যাত ‘রেড লিস্ট’ বা লাল তালিকা এই সংস্থাই প্রকাশ করে থাকে। তাই নামের পূর্ণরূপ এবং কাজের পরিধির ওপর ভিত্তি করে ক অপশনটি হলো একেবারে ১০০% সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমনের জন্য জাতিসংঘ বা ইন্টারপোল কাজ করে। পানি সম্পদ সংরক্ষণের জন্য আলাদা অনেক সংস্থা রয়েছে। আর মানবাধিকার সংরক্ষণের কাজ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংগঠনগুলো। তাই এই তিনটি অপশনের কোনোটিই আইইউসিএন (IUCN) এর মূল লক্ষ্যের সাথে সম্পৃক্ত নয়।
পরীক্ষার হলে এই সংস্থাটির কাজ মনে রাখার সবচেয়ে সোজা কৌশল হলো নামের ভেতরের একটি ইংরেজি অক্ষর মনে রাখা। “IUCN এর C মানে হলো কনজারভেশন (Conservation) বা সংরক্ষণ, আর N মানে হলো নেচার (Nature) বা প্রকৃতি। অর্থাৎ প্রকৃতি সংরক্ষণ।” এই সাধারণ ইংরেজি পূর্ণরূপটি মনে রাখলে অফিস সহায়ক পরীক্ষার ১০০% সঠিক উত্তর ২০২৬ যাচাই করার সময় এই ধরনের প্রশ্নে আপনার আর কখনোই ভুল হবে না।
৭২. ইউরো মুদ্রার সেন্ট্রাল ব্যাংক কোথায় অবস্থিত? ক. ফ্রান্স খ. ইতালি গ. রাশিয়া ঘ. জার্মানি সঠিক উত্তর: ঘ. জার্মানি
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থনৈতিক কাঠামো সাধারণ জ্ঞানের একটি অত্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড এবং অ্যাডভান্সড টপিক। ইউরোপের একক মুদ্রা ‘ইউরো’ কে নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটি শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে এই প্রশ্নটি করা হয়েছে।
ইউরো মুদ্রার প্রচলন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে, তার নাম হলো ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (European Central Bank – ECB)। এই অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যাংকটির সদর দপ্তর বা প্রধান কার্যালয় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট (Frankfurt) শহরে অবস্থিত। ইউরোপের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে জার্মানিকে বিবেচনা করা হয় বলেই ব্যাংকটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল। তাই ভৌগোলিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘ অপশনটিই হলো একেবারে নির্ভুল উত্তর।
বাকি অপশনগুলো বিবেচনা করলে, ফ্রান্স এবং ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় অর্থনীতির দেশ হলেও, ইউরোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি তাদের দেশে অবস্থিত নয়। আর রাশিয়া তো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যই নয় এবং তারা ইউরো মুদ্রাও ব্যবহার করে না (তাদের মুদ্রা রুবল)। তাই অপশনগুলো শুধু পরীক্ষার্থীদের ইউরোপীয় দেশগুলোর নাম দিয়ে বিভ্রান্ত করার জন্য দেওয়া হয়েছে।
এই সদর দপ্তরের অবস্থানটি খুব দ্রুত মনে রাখার একটি চমৎকার অর্থনৈতিক লজিক আছে। “ইউরোপের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হলো জার্মানি। তাই স্বাভাবিকভাবেই পুরো ইউরোপের টাকার কন্ট্রোল বা সেন্ট্রাল ব্যাংক জার্মানিতেই থাকবে।” এই বাস্তব এবং লজিক্যাল ধারণাটি মাথায় রাখলে ইউরোপের অর্থনীতি নিয়ে আসা প্রশ্নে আপনি খুব সহজেই বাজিমাত করতে পারবেন।
৭৩. ক্রিপ্টোকারেন্সির স্বীকৃতি প্রদানকারী পৃথিবীর প্রথম দেশ কোনটি? ক. এল সালভাদর খ. গুয়েতেমালা গ. নিকারাগুয়া ঘ. হুন্ডুরাস সঠিক উত্তর: ক. এল সালভাদর
ব্যাখ্যা: আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির একটি যুগান্তকারী বিপ্লব হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা (যেমন বিটকয়েন)। সাধারণ জ্ঞানের সাম্প্রতিক বিষয়ের একটি অত্যন্ত হট টপিক হলো এই ভার্চুয়াল মুদ্রাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার ইতিহাস।
সেন্ট্রাল আমেরিকার একটি ছোট্ট কিন্তু সাহসী দেশ ‘এল সালভাদর’ (El Salvador)। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের সমস্ত অর্থনৈতিক প্রথা ভেঙে দিয়ে এল সালভাদর পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সিকে তাদের দেশের ‘বৈধ বা লিগ্যাল টেন্ডার’ (Legal Tender) হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেল এই দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন। তাই আন্তর্জাতিক খবরের এই যুগান্তকারী তথ্যের ভিত্তিতে ক অপশনটিই হলো শতভাগ সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, গুয়েতেমালা, নিকারাগুয়া বা হুন্ডুরাস—এগুলো সবই এল সালভাদরের প্রতিবেশী মধ্য আমেরিকান দেশ। পরীক্ষার্থীদের ভৌগোলিক কনফিউশনে ফেলার জন্যই এই কাছাকাছি দেশগুলোর নাম অপশনে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এরা কেউই বিটকয়েনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে লিগ্যাল টেন্ডারের স্বীকৃতি দেয়নি।
পরীক্ষার হলে এই দেশটির নাম আজীবন মনে রাখার একটি চমৎকার শর্টকাট কৌশল রয়েছে। “ক্রিপ্টো বা বিটকয়েন হলো অর্থনীতির এক ধরনের নতুন উদ্ধারকর্তা বা সালভেশন (Salvation)। আর সালভেশন থেকেই এসেছে এল সালভাদর।” এই মজার শব্দের মিল বা ধ্বনিগত ট্রিকটি মনে রাখলে DOE এর পরীক্ষায় অপশন দেখামাত্রই আপনার সঠিক উত্তরটি চোখের সামনে ভেসে উঠবে।
৭৪. ফিলাটেলি শব্দটি কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত? ক. টেলিফোন খ. ইন্টারনেট গ. ডাক বিভাগ ঘ. টেলিগ্রাম সঠিক উত্তর: গ. ডাক বিভাগ (বা স্ট্যাম্প সংগ্রহ)
ব্যাখ্যা: সাধারণ জ্ঞান অংশে বিভিন্ন অদ্ভুত বা আনকমন বিষয়ের অধ্যয়ন বা শখের বৈজ্ঞানিক নামগুলো প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের ঘাম ছুটিয়ে দেয়। এই টার্মগুলো সাধারণত গ্রিক বা ল্যাটিন শব্দ থেকে তৈরি হয় বলে সহজে অর্থ বোঝা যায় না। আমাদের আজকের মেগা আয়োজনের এই একেবারে শেষ প্রশ্নটিতে ঠিক তেমনি একটি মজাদার এবং ঐতিহাসিক শখের গালভরা নাম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।
‘ফিলাটেলি’ (Philately) হলো একটি ইংরেজি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ হলো ডাকটিকিট বা স্ট্যাম্প সংগ্রহ করা এবং এ নিয়ে বিস্তারিত অধ্যয়ন করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডাকটিকিট জমানো একটি অত্যন্ত পুরোনো এবং রাজকীয় শখ। যেহেতু ডাকটিকিট বা স্ট্যাম্প সরাসরি ডাক বিভাগের (Postal Service) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই ফিলাটেলি শব্দটি অবধারিতভাবেই ডাক বিভাগের সাথে সম্পর্কিত। এই নিখুঁত আভিধানিক অর্থের ওপর ভিত্তি করেই গ অপশনটি হলো একেবারে ১০০% নির্ভুল উত্তর।
বাকি অপশনগুলো যদি আমরা যাচাই করি, তবে দেখব টেলিফোন, ইন্টারনেট বা টেলিগ্রাম—এগুলো সবই উন্নত যোগাযোগের মাধ্যম। ফিলাটেলি শব্দের প্রথম অংশে ‘ফিলা’ (Phila) এবং টেলিফোন বা টেলিগ্রামের ‘টেলি’ (Tele) দেখে অনেক পরীক্ষার্থী শব্দগুলোকে এক গোত্রের বা কাছাকাছি ভেবে মারাত্মক ভুল করে বসেন। কিন্তু আভিধানিক দিক থেকে এই তিনটির সাথে স্ট্যাম্প জমানোর কোনো সম্পর্ক নেই।
এই শখ বা টার্মটি মনে রাখার সবচেয়ে সোজা এবং একটু মজার কৌশল হলো শব্দের সাথে বাংলা মেশানো। “কেউ যদি পরীক্ষায় ফেল মারে, তবে সে বসে বসে স্ট্যাম্প জমায় বা ফিলাটেলি (ফেল-টেলি) করে।” এই নিছক হাস্যকর কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী ভিজ্যুয়াল ট্রিকটি যদি আপনি একবার মাথায় গেঁথে নিতে পারেন।
৭৫. কোন গাছকে সূর্যের কন্যা বলা হয়? ক. তুলা গাছ খ. শিমুল গাছ গ. সূর্যমুখী ঘ. জারুল গাছ সঠিক উত্তর: ক. তুলা গাছ
ব্যাখ্যা: সাধারণ জ্ঞান অংশের উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং কৃষিবিজ্ঞান থেকে আসা এই প্রশ্নটি বেশ আকর্ষণীয় এবং অনেকের কাছেই একটু ব্যতিক্রমী মনে হতে পারে। এটি মূলত সাহিত্যিক উপমার সাথে বৈজ্ঞানিক তথ্যের এক দারুণ সংমিশ্রণ। পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক পদের প্রশ্ন ২০২৬ যাচাই করতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, এই ধরনের উপমাযুক্ত সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের বেশ দ্বিধায় ফেলে দেয়। অনেকেই ভুল করে নামের মিল থাকার কারণে সূর্যমুখী দাগিয়ে বসেন, যা সম্পূর্ণ ভুল।
প্রকৃতপক্ষে ‘সূর্যের কন্যা’ বা Daughter of the Sun বলা হয় তুলা গাছকে। এর পেছনের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক এবং যৌক্তিক কারণটি হলো, তুলা গাছের বৃদ্ধি এবং এর ফলন সম্পূর্ণভাবে প্রখর সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত এবং কড়া রোদ ছাড়া তুলা গাছে ভালো ফুল আসে না এবং এর ভেতরের শুভ্র তুলা সঠিকভাবে পরিপক্ব হতে পারে না। সূর্যের সাথে এই নিবিড় নির্ভরশীলতার কারণেই একে ভালোবেসে সূর্যের কন্যা উপাধি দেওয়া হয়েছে।
বাকি অপশনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সূর্যমুখী ফুল কেবল সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, একে বৈজ্ঞানিক বা সাহিত্যিক ভাষায় সূর্যের কন্যা বলা হয় না। শিমুল বা জারুল গাছও আমাদের দেশীয় প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এদের এমন কোনো বিশেষ উপাধি আমাদের কৃষিবিজ্ঞানে নেই। যারা এই তথ্যটি জানতেন না, তারা আজ নতুন একটি দারুণ বিষয় শিখে নিলেন।
ভবিষ্যতে এই প্রশ্নটি মনে রাখার অত্যন্ত সহজ একটি নিয়ম হলো তুলার শুভ্রতার কথা চিন্তা করা। “সূর্যের আলো যেমন শুভ্র এবং বিশুদ্ধ, তুলাও ঠিক তেমনি শুভ্র; তাই তুলাই হলো সূর্যের কন্যা।” এই ছোট্ট লাইনটি এবং ভিজ্যুয়াল চিত্রটি মনে রাখলে DOE যেকোনো পরীক্ষায় আপনারা কখনোই সূর্যমুখী আর তুলা গাছের মধ্যে কনফিউজড বা বিভ্রান্ত হবেন না।
Frequently Asked Questions
পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস সহায়ক পরীক্ষায় কোন বিষয় থেকে বেশি প্রশ্ন আসে?
বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাম্প্রতিক ঘটনা, গণিত, ইংরেজি এবং পরিবেশ সম্পর্কিত প্রশ্ন বেশি আসে।
অফিস সহায়ক পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান কীভাবে যাচাই করবেন?
সরকারি উত্তরপত্র, নির্ভরযোগ্য জিকে বই এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সাথে মিলিয়ে যাচাই করা উচিত।
DOE অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ PDF পাওয়া যাবে?
কর্তৃপক্ষ PDF প্রকাশ করলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
শেষকথা
পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস সহায়ক লিখিত পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রশ্ন ৫১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত ব্যাখ্যাসহ সমাধান এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকারি তথ্য, ইতিহাস, পরিবেশ বিষয়ক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সাধারণ জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে উত্তর দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আপডেট, অফিসিয়াল উত্তরপত্র এবং ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেজ নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।





![[নির্ভুল ব্যাখ্যাসহ] দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ [নির্ভুল ব্যাখ্যাসহ] দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬](https://educrix.com/wp-content/uploads/2026/06/নির্ভুল-ব্যাখ্যাসহ-দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা-অধিদপ্তর-অফিস-সহায়ক-প্রশ্ন-সমাধান-২০২৬-150x150.webp)



![[নির্ভুল ব্যাখ্যাসহ] দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬](https://educrix.com/wp-content/uploads/2026/06/নির্ভুল-ব্যাখ্যাসহ-দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা-অধিদপ্তর-অফিস-সহায়ক-প্রশ্ন-সমাধান-২০২৬-1024x605.webp)

